Your Target: WPM → 10, Accuracy → 85%
(Anti-cheat enabled)
Prior Attempts: 0 / 5 (5 remaining)
বংলা টাইপিং এর শংসা পত্র পাওয়ার জন্য শেষ অর্থাৎ চূড়ান্ত পরীক্ষা। তবে এই টাইপিং পরীক্ষাটি তখনই কার্যকর হবে যখন আপনি আগের দেওয়া ২৪ টি বাংলা টাইপিং অনুশীলন ও ১০ টি পরীক্ষা পাশ করবেন ।
মনে রাখবেন আপনি মোট পাঁচবার এই টেস্টটি দিতে পারবেন এবং এই পাঁচবার টেস্টের সেরা ফলাফল টি আপনার শংসা পত্রে উল্লেখিত হবে
কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের এক সরু গলিতে হরিপদ বাবুর পুরনো বইয়ের দোকান— ‘বইয়ের ঘর’। দোকানটা বাইরে থেকে দেখতে খুব সাধারণ হলেও, ভেতরে ঢুকলে মনে হয় যেন অন্য এক জগতে এসে পড়েছি। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত থরে থরে সাজানো হাজারো বই। ধুলোমাখা পুরনো কাগজের সোঁদা গন্ধ আর সারি সারি বইয়ের মাঝে হরিপদ বাবু গত চল্লিশ বছর ধরে দিন কাটাচ্ছেন। বইগুলোই তার সংসার, বইগুলোই তার প্রিয় বন্ধু। আধুনিক চকচকে বইয়ের চেয়ে এই হলদেটে পাতাগুলোতেই তিনি জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পান।
সেদিন ছিল আষাঢ় মাসের এক পড়ন্ত বিকেল। আকাশ কালো করে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল হঠাৎ। রাস্তাঘাট নিমেষেই ফাঁকা হয়ে গেল। ছাতার আড়ালে মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। এমন সময় ভিজে চুপসে যাওয়া এক তরুণী এসে ঢুকল দোকানে। বয়স মেরেকেটে বাইশ কি তেইশ। চোখেমুখে এক অদ্ভুত উৎকণ্ঠা আর ক্লান্তির ছাপ। হরিপদ বাবু চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী চাই মা? কোনো বিশেষ বই খুঁজছ এই বৃষ্টির দিনে?”
তরুণী একটু ইতস্তত করে বলল, “কাকু, আমার দাদুর লেখা একটা কবিতার বই খুঁজছি। চল্লিশ বছর আগে ছাপা হয়েছিল। নাম ‘নীল পাহাড়ের ডাক’। অনেক জায়গায় খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। দাদু গত সপ্তাহে মারা গেছেন, তার খুব ইচ্ছে ছিল বইটা একবার চোখে দেখার। মৃত্যুর আগে তিনি বারবার ওই বইটার কথাই বলছিলেন।”
বইয়ের নামটা শুনে হরিপদ বাবুর কপালে ভাঁজ পড়ল। ‘নীল পাহাড়ের ডাক’। নামটা যেন চেনা চেনা লাগছে। তিনি চোখ বন্ধ করে পুরনো স্মৃতি হাতড়াতে লাগলেন। হঠাৎ মনে পড়ল, প্রায় পনেরো বছর আগে হাওড়ার এক পুরনো লাইব্রেরি নিলামে উঠলে তিনি কিছু বই কিনেছিলেন। সেখানেই বোধহয় ছিল বইটা। সেই বইয়ের বান্ডিলটা তিনি পেছনের তাকের একেবারে কোনায় অযত্নে রেখেছিলেন।
“তুমি একটু বোসো মা,” বলে হরিপদ বাবু তার দোকানের সবচেয়ে পুরনো আর ধুলোমাখা তাকটার দিকে এগিয়ে গেলেন। একটা কাঠের মই বেয়ে সাবধানে ওপরে উঠলেন। অনেকগুলো বই সরিয়ে, ধুলো ঝেড়ে একেবারে পেছনের সারি থেকে একটা হলদেটে হয়ে যাওয়া পাতলা বই বের করে আনলেন। বইয়ের মলাট প্রায় ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু নামটা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে— ‘নীল পাহাড়ের ডাক’।
বইটা তরুণীর হাতে দিতেই তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। সে কাঁপাকাঁপা হাতে বইটি বুকে জড়িয়ে ধরল। ধরা গলায় বলল, “কাকু, এর দাম কত দেব?”
হরিপদ বাবু মৃদু হেসে বললেন, “স্মৃতির কি কোনো দাম হয় মা? ওটা তোমার দাদুর জিনিস, তোমার কাছেই ফিরে গেছে। এটাই আমার পরম পাওয়া।”
তরুণী চোখের জল মুছে, একগাল তৃপ্তির হাসি হেসে দোকান থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরের বৃষ্টি তখন থেমে গেছে। বিকেলের ম্লান আলোয় হরিপদ বাবু দেখলেন, তরুণীটি বইটি বুকে আগলে দূর অজানায় মিলিয়ে যাচ্ছে। তিনি আবার তার চশমাটা ঠিক করে খবরের কাগজটা হাতে তুলে নিলেন। পুরনো বইয়ের সোঁদা গন্ধটা যেন আজ তার কাছে আরও একটু বেশি স্নিগ্ধ আর আপন মনে হতে লাগল।
Test Complete!
WPM
0
Accuracy
0%
CPM: 0
Correct
0
Incorrect
0
Total
0
Save Your Progress!
Log in or create an account to save your test results, track your history, and join the leaderboard.